ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাৎ

৪ এপ্রিল, ২০১৭ এই বিষয়ে কথা বলতে বি-স্ক্যান প্রতিনিধি দল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. গ্রে. জে. জনাব মোঃ সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম সাহেবের সাথে READ MORE

ববস’এর বেস্ট ব্লগ ক্যাটাগরিতে আবারও সাবরিনা সুলতানা’র ব্লগ

ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতায় গত বছর সেরা ব্লগ বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া সাবরিনা সুলতানা’র বাংলা ব্লগটি এ বছর একই বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এই উপলক্ষ্যে ১৮ এপ্রিল ২০১২ জার্মানীর ডয়েচভেলের রেডিও থেকে তার একটিসাক্ষাৎকার নেয়া হয়। এছাড়াও ডয়েচে ভেলে’র ওয়েবসাইটে তার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে । বাংলা ভাষার প্রতিনিধি হিসেবে সাবরিনার ব্লগকে জয়ী দেখতে চাইলে এই লিঙ্কে ভোট দিতে পারেন। ২ মে, ২০১২ পর্যন্ত  ভোট দেয়ার সুযোগ রয়েছে, আপনার ফেসবুক, টুইটারসহ একাধিক সামাজিক নেটওয়ার্ক এর একাউন্ট ব্যবহার করে ভোট দেয়া যাবে৷

একীভূত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে বি-স্ক্যানের কনসার্ট

‘চলুন, একীভূত সমাজ গড়ি’ এই অঙ্গীকার নিয়ে ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিতহলো ওপেন কনসার্ট। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন (ডিপিও) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) এর আয়োজনে বিভিন্ন ব্যান্ড দল এবং প্রতিবন্ধী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন এই কনসার্টে।  এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবরিনা সুলতানা ও তানভির আরাফাত ধ্রুব।

ব্যান্ডদলের মধ্যে জলের গান, নেফারিয়াস সেনটিনেল, আবর্তন ও শহরতলীর পরিবেশনা ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী শিল্পীদের মধ্যে আরও ছিলেন চাঁদের কনা, স্বপ্না চাঁদনী, নজরুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন দোলন। তাদের সাথে একই কাতারে আবৃত্তিকার রূপা চক্রবর্তী অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে অ-প্রতিবন্ধী মানুষের সম অংশগ্রহণ ছিল প্রতিটি পর্যায়ে। পারফর্মার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও এই সমতা ছিল। বি-স্ক্যান প্রতিবন্ধী মানুষের সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের অধিকার অর্জনেএবং এই দেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে সচেতনতার উদ্দেশ্য কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিবন্ধী মানুষের কন্ঠস্বর হিসেবে ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে বি-স্ক্যান কর্তৃক প্রকাশিত হচ্ছে ত্রৈমাসিক পত্রিকা অপরাজেয়। প্রতিবন্ধী মানুষের সমন্বয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত এই পত্রিকাটির ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

সিম্ফোনি, ওয়াটারএইড, সাজিদা ফাউন্ডেশন, টিম এবং নিও জিপার কোম্পানী লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার ছিলো সময় নিউজ, এটিএন নিউজ,রেডিও টুডে, রেডিও এবিসি, দৈনিক সমকাল, বিডিনিউজটুয়েনটিফোর।

প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে পরিবার গঠন ও মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মতবিনিময় সভা

প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে, পরিবার গঠন ও মাসিক পরিচর্যা একেবারেই অপরিচিত শব্দগুলো বাংলাদেশের জন্য। বৈরি পরিবেশে বেড়ে উঠে প্রতিবন্ধী নারীদের সম্পর্কে এবং তাদের জন্য বাংলাদেশ সংবিধানে এবং আইনে কি রয়েছে মানুষ জানেই না। অপ্রতিবন্ধী নারীদের মত তাদের অচলায়তন ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসতে হবে তাই।

আজ ‘প্রতিবন্ধী নারীর মাসিককালীন পরিচর্যা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য; ব্যবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক-এবং ফেনী – ১ আসন এর সংসদ সদস্য শিরীন আখতার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখাকালে এ কথাগুলো বলেন। এ বিষয়ে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে স্কুলগুলোতেও গুরত্বারোপ করতে হবে। জাসদের কর্ম এলাকায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি যুক্ত করা এবং ফেনী নিজ এলাকায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিএমপি এর সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিককালীন পরিচর্যা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এই বিষয়ের ওপর মত বিনিময় সভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজের অন্তর্দৃষ্টি খুললো কিছুটা। বিএমপি এর কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়ে আগে কাজ হলেও এখন থেকে তাদের মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

২৮ মে মাসিক পরিচর্যা দিবস উপলক্ষ্যে সমবায় অধিদফতর মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) উদ্যেগে এ সভার আয়োজন করা হয়েছিলো আজ। এছাড়াও সভার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে প্র্যাকটিকাল একশেন, কনসার্ন উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি),সাজিদা ফাউন্ডেশন, ওয়াটারএইড, এবং ওয়াশ এ্যালায়েন্স।

বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে সভাপতি সাবরিনা সুলতানা মূল প্রবন্ধ পাঠকালে অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে পরিবার প্রজনন স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়গুলো বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় থাকলেও তার বাস্তবায়ন একেবারেই নেই। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ তে প্রতিবন্ধী নারীদের একীভূত হবার বিষয়ে খানিকটা উল্লেখ থাকলেও, কোথাও নেই তাদের পরিবার গঠনের অধিকারের কথা। জাতীয় বাজেট তারা বঞ্চিত। এমনকি ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ের পরিচালিত হাইজিন বেজলাইন সার্ভেতেও প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তভুক্ত করা হয় নি।

প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক ও প্রজননস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুধী সমাজের প্রতি নিম্নে উল্লেখিত কিছু প্রস্তাবনা তুলে মতবিনিময় সভায়ঃ

১. বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী নারীদের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে জরিপ পরিচালনাসহ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া

২. প্রতিবন্ধী নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য সেবা’র সংবেদনশীল বিষয়গুলো স্বাস্থ্য নীতি’র অন্তর্ভুক্তি ও তার বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করা; নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সেবার মান পর্যালোচনা করা

৩. জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী নারীর হাইজিন ও প্রজননস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা

৪. নারী উন্নয়ন নীতিমালার অধীনে তৈরি কর্ম পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করা

৫. অ-প্রতিবন্ধী নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রস্তাবিত প্রকল্প বা কর্মসূচী প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা

৬. অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী এবং মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ

৭. ভবঘুরে বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য করণীয় নির্ধারণ

৮. উপজেলা, জেলাসদর, মাতৃসদন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ‘স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা’ বিভাগে প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রতিবন্ধী নারী সহায়ক কর্নার রাখা এবং প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া

৯. দেশের সকল স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী নারীর হাইজিন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্তত একজন করে কর্মী নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের কাজ সুষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা (এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডাক্তার বা নার্স নয় বরং সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বস্তরের কর্মচারীদের এমনকি হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচার বহনকারী, ল্যাব-টেকনিসিয়ান, ইত্যাদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে)

১০. ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধী নারীদের সেবা ও তাদের প্রতি হয়ে যাওয়া বৈষম্য রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ

১১. প্রজননস্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য, প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার কাজে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা