দিক নির্দেশনা:

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বি-স্ক্যান  প্রচারণা, পরিচিতিমুলক কার্যক্রম তথা প্রতিবন্ধী মানুষের বৃহত্তর কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবী বা Volunteer সদস্যদের আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে চায়।  আর তাই  আমাদের চারটি উদ্দেশ্য  যথা – শিক্ষা, চাকরি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সর্বক্ষেত্রে প্রবেশের সুবিধাকে সামনে রেখে প্রাথমিক কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হলো। যে যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব কিছু করার জন্য এগিয়ে আসুন।

সাধারণ দিকনির্দেশনাঃ

১। স্বেচ্ছাসেবী  সদস্যগণ তাদের নিজ নিজ এলাকায় কাজের সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক ৩ থেকে ৫ জনের একটা দল গঠন করতে পারেন ।

২। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকায় কতজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন এবং তাদের কি ধরণের প্রতিবন্ধিতা (উরংধনরষরঃু) আছে তার একটা তালিকা তৈরী করতে পারেন। আর আপনি যখন আপনার পাশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে কোন অবদান রাখবেন আমরা নির্ধিধায় বলতে পারি আপনি আপনার কাজের জন্য আত্মতৃপ্তি অনুভব করবেন যা প্রকৃতপক্ষে বি-স্ক্যান এর উদ্দেশ্য পুরণে ভূমিকা রাখবে।

৩। স্বেচ্ছাসেবী সদস্য তাদের এলাকায় নির্মাণাধীন কোন ভবন থাকলে তা পরিদর্শন করে সেখানে প্রবেশগম্যতা না থাকলে কর্তৃপক্ষকে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে অনুরোধ / উদ্বুদ্ধ করতে পারেন এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারী নির্দেশনার কপি দেখানো যেতে পারে।

৪। স্বেচ্ছাসেবী সদস্যগণ তাদের এলাকায় শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, কমিউনিটি সেন্টার এই সমস্ত পাবলিক প্লেসের ব্যবস্থাপনা /নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাথে যদি ব্যক্তিগত কোন সম্পর্ক (থাকলে কাজে লাগানো যেতে পারে) নাও থাকে তাহলে শুধুমাত্র আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে তাদেরকে সচেতন করা যে এ সমস্ত পাবলিক প্লেসেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আসার অধিকার রয়েছে এবং প্রতিবন্ধীদের এ সমস্ত জায়গায় চলাচল তাদের প্রতিষ্ঠানের মর্যদা আরও বাড়িয়ে দিবে এ বিষয়ে তাদের মাঝে সচেতনামূলক প্রচারণা চালান । শপিংমল কিংবা বিনোদন কেন্দ্রে র‌্যাম্পের ব্যবস্থা করা গেলে সেটা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেই আরও বেশি লাভজনক করবে সেটা তুলে ধরা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা তাদের এ উদ্যোগ সমাজে ব্যাপকভাবে প্রসশংসিত হবে সে বিষয়ে তাদেরকে বোঝান যেতে পারে।  সর্বোপরি, সরকারী নির্দেশনার কপি দেখানো যেতে পারে।

৫। যে সকল ক্ষেত্রে শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, কমিউনিটি সেন্টার এই সমস্ত পাবলিক প্লেস, এপার্টমেন্ট ইত্যাদি জায়গায় আগে থেকেই র‌্যাম্পের ব্যবস্থা আছে অথবা প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ –

ক) বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই এমন এপার্টমেন্ট / পাবলিক প্লেসের সামনে ডিসেবিলিটি লোগোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

খ) এমন পাবলিক প্লেসে তথা কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অন্ততপক্ষে একটি টয়লেট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী করা এবং ডিসেবিলিটি লোগো সাঁটানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে ।

৬। যে সমস্ত মসজিদে শুক্রবারে জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, বিশেষ করে সেই এলাকায় যদি কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকেন এবং তিনি যদি মসজিদে যেতে আগ্রহী হন তবে সেই সমস্ত মসজিদকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে মসজিদ কমিটির সাথে আলাপ করে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও তাদেরকে  উদ্বুদ্ধ করে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা যেতে পারে ।

৭। শুধুমাত্র যাতায়াতের সু-ব্যবস্থা না থাকার মত প্রতিবন্ধকতাই আজ যেমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করছে তেমনি যোগ্য প্রতিবন্ধীকে কর্মসংস্থান তথা সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত রাখছে । তাই গুরুত্তের সাথে উল্লেখ করে “প্রবেশগম্যতা” এবং “শিক্ষার অধিকার” এর উপর বিষয় ভিত্তিক দু’ধরনের লিফলেট তৈরী করে তা ব্যপকভাবে প্রচার করা যেতে পারে ।

স্কুল/ কলেজ/ ইউনিভার্সিটির ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য দিকনির্দেশনাঃ

৮। আপনার পরিচিত বা অধ্যায়নরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাথে কথা বলে একীভুত শিক্ষার ব্যাপারে তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন। আপনার এলাকার অন্তত একটি স্কুলকে প্রতিবন্ধী বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক তথ্যগুলো আপনার বন্ধুদের মাঝে গল্পের ছলে আড্ডায় ছড়িয়ে দিতে পারেন।

চাকুরীজীবীগনের জন্য দিকনির্দেশনাঃ

৯। আপনি যদি কোন কর্পোরেট অফিসের অধিকর্তা হন তাহলে আপনার অফিসে প্রতিবন্ধী-বান্ধব কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী করতে অগ্রণী ভুমিকা রাখুন ।  আর আপনি যদি কোন নীতি নির্ধারনী পদের অধিকারী না হোন, তবে যখনই আপনার অফিসে কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে তখন ঐ কাজটি যদি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করতে সক্ষম বলে আপনি মনে করেন তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ঐ পদটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত/ নির্দিষ্ট রাখতে অনুরোধ করতে পারেন ।

১০। আপনার কর্মস্থল যদি জনগণের সাথে সম্পর্কিত এমন হয় যেমন ব্যাংক, পাসপোর্ট অফিস, ওয়াসা /টেলিফোন ভবন, এনজিও অফিস ইত্যাদি তাহলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তা ব্যক্তির সাথে নিবিড়/ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কল্যাণে সেখানে প্রবেশগম্যতার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে । সেই সাথে সেখানে প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী একটি টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে ।

১১। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ । ব্যক্তিগত বিনোদনের যেমন তাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে সমাজ গঠনে তথা দেশের উন্নয়নে তারাও বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সচেতন করে তোলা দরকার। প্রাথমিকভাবে প্রবেশগম্যতা এবং শিক্ষার অধিকার বিষয়ে যত বেশি করা যাবে, আমাদের সমাজ তত বেশী সমৃদ্ধ হবে আর এর মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমঅধিকার নিশ্চিত হবে ।

১২। স্বেচ্ছাসেবী সদস্যগণই এ ব্যপারে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন কারন তারাই অধিক মোবিলিটির অধিকারী। জ্ঞানে, গুণে, মননে তারাই বেশি সমৃদ্ধ ।  সমাজের যে কোন ব্যক্তি তথা আপনিও যে কোন মূহুর্তে হতে পারেন প্রতিবন্ধিতার শিকার,  শুধুমাত্র সঠিক মানসিকতা এবং ভাবনাটা মনের মধ্যে গেঁথে নিলেই দেখবেন একজন স্বেচ্ছাসেবী সদস্য হিসাবে আপনিও এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার রক্ষায় ।

১৩। আমরা যদি র‌্যাম্প বা ঢালু পথ যেখানে যেমন প্রয়োজন তার একটা সুনির্দিষ্ট নকশাসহ সম্ভাব্য খরচের একটা তালিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারি তাহলে বিষয়টি অনেক সহজ হবে এবং কর্তৃপক্ষও আশা করা যায় তা বাস্তবায়ানের জন্য এগিয়ে আসবেন।

১৪। বি-স্ক্যান অনলাইন ভিত্তিক একটি দল। দেশ বিদেশের প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক নানা তথ্য আমরা ফেসবুক বি-স্ক্যান গ্রুপে তুলে ধরি।  আপনার ফেসবুক ওয়ালে সেই তথ্যগুলো কিছু সময়ের জন্য শেয়ার করুন। নিমিষেই বহু মানুষ কাছে ছড়িয়ে পড়বে বিষয়টি। অনেকেই হয়তো সচেতনতা বৃদ্ধিসহ স্বেচ্ছাশ্রমে আগ্রহী হবেন যেমনটি আপনারা হয়েছেন। এই বিষয়ক যে কোন ইতিবাচক তথ্য, ভিডিও চিত্র ইত্যাদি আপনিও তুলে ধরতে পারেন। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে মিডিয়ার কোন বিকল্প নেই। তাই প্রবেশগম্যতা, একীভুত শিক্ষা, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাফল্য ইত্যাদি তুলে ধরতে আপনাদের পরিচিত যে কোন গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে এগিয়ে আসুন।

[এটি একটি প্রাথমিক ও খসড়া দিকনির্দেশনা। পরবর্তীতে এটা আরও সমৃদ্ধ করা যাবে, আপনাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের এই দিকনির্দেশনাগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।]

সেচ্ছাসেবী হিসেবে আমাদের সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে চাইলে এই লিংকে ক্লিক করে ছবি সহ আপনার একটি বায়োডাটা পাঠিয়ে দিন