মাসিক ব্যবস্থাপনায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রতিবন্ধী কিশোরী ও নারীর ঋতুকালীন পরিচর্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটেও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ চায় প্রতিবন্ধী নারীরা। জাতীয় পর্যায়ের হাইজিন বেজলাইন জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবী জানান তারা।

আজ বৃহস্পতিবার প্রান্তিক কিশোরী ও নারীর মাসিক পরিচর্যা ও বাধাসমূহ; না বলা কথামালা শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের এক মতবিনিময় সভায় প্রতিবন্ধী নারীরা এ দাবী জানান। মাসিক বিষয়ে শিক্ষা, বদলে দেবে জীবনধারা এই প্রতিপাদ্যে ২৮ মে বিশ্ব মাসিক পরিচর্যা দিবস ২০১৭ পালন উপলক্ষ্যে এলজিইডি ভবনের আরডিইসি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি। ওয়াটারএইড এর দেশীয় পরিচালক জনাব ডা. খায়রুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ আয়োজন বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. আশরাফি আহমেদ, সমাজসেবা অধিদফতরের উপসচিব (প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ), ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), ড. ফাহমিদা হোসেন, উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্র্যাকটিক্যাল একশেন এর দেশীয় পরিচালক হাসিন জাহান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন বি-স্ক্যান এর সমন্বয়ে কনসার্ন উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি), ডর্প, প্র্যাকটিক্যাল একশেন বাংলাদেশ, ওয়াশ এল্যায়েন্স বাংলাদেশ, ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশেন কোলাবরেটিভ কাউন্সিল (ডব্লিউএসএসসিসি), সেনোরা এবং ওয়াটারএইড যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৪৯০টি উপজেলায় কিশোরী ক্লাবে প্রতিবন্ধী কিশোরীদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বল্পমূল্যের স্যানিটারি প্যাড তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারী উদ্যোক্তা তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সভার প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি। সভায় অন্যান্য বক্তারা জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রতিবন্ধী নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্তিসহ সরকারের এ বিষয়ক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী নারীর অংশগ্রহণ ও মতামত প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা ভবনসহ সকল ক্ষেত্রে প্রবেশগম্য টয়লেট এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

যারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা, পোষাক পরিধান এবং টয়লেট ব্যবহার করতে পারে না বা সমস্যার মুখোমুখি হয় তাদের বিশেষত আরও বৈষম্যপীড়িত – বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী, অটিস্টিক নারী, মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারী, মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত নারী, ডাউনসিন্ড্রোম নারীদের ঋতুকালীন পরিচর্যা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য, পরিচ্ছন্ন থাকার পদ্ধতি বিষয়ে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নেওয়ার দাবী জানানো হয় মুল প্রবন্ধে। মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন বি-স্ক্যান এর সভাপতি সাবরিনা সুলতানা। বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী নারী ও শিক্ষার্থীরা ছাড়াই অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অলোক মজুমদার, দেশস্থ প্রতিনিধি, ওয়াশ এ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, ইয়াকুব খান, জাতীয় আহবায়ক, ফানসা, রফিক জামান, পরিচালক, পিএনএসপি, সালমা মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক, বি-স্ক্যান, আসিফ সিদ্দিকী, সভাপতি, প্যারেন্টস ফোরাম প্রমূখ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে সাক্ষাৎ

৪ এপ্রিল, ২০১৭ বি-স্ক্যান প্রতিনিধি দল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রি. গ্রে. জে. জনাব মোঃ সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম সাহেবের সাথে  সাক্ষাৎ করেন। ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাত উন্নয়নে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের সুবিধার্থে টেকটাইল টাইলস বসানো হচ্ছে। এই বিষয়ে কথা বলতে এবং টেকটাইল সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই সাক্ষাৎ করা হয়।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে মূলধারায় ব্যাপক আকারে কোন উদ্যোগ নেই এখন পর্যন্ত। যদিও প্রতিবন্ধী মানুষেরা থেমে নেই। অনেকেই নিজেদের মত করে ক্ষুদ্র অথবা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুসারে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী মানুষদের আত্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তারা যেনো আরো সক্রিয়ভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বি-স্ক্যান। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সঠিক ব্যবসা পছন্দ করে নেয়ার সিদ্ধান্ত তৈরি, ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয় এই প্রশিক্ষণে।

১৭ জন বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে ৫ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ, ৭ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ, ১ জন শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ এবং ৩ জন মস্তিষ্ক পক্ষাঘাত প্রতিবন্ধী মানুষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে নারী প্রতিবন্ধী ছিলেন ৯ জন। ঢাকার বাইরে তৃণমূল পর্যায়ের দু’জন নারী প্রতিবন্ধী এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।

এডিসন গ্রুপ এবং টাইমনাও এর সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে পরিবার গঠন ও মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মতবিনিময় সভা

প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে, পরিবার গঠন ও মাসিক পরিচর্যা শব্দগুলো বাংলাদেশের জন্য একেবারেই অপরিচিত । বৈরি পরিবেশে বেড়ে উঠে প্রতিবন্ধী নারীদের সম্পর্কে এবং তাদের জন্য বাংলাদেশ সংবিধানে এবং আইনে কি রয়েছে মানুষ জানেই না। অপ্রতিবন্ধী নারীদের মত তাদের অচলায়তন ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসতে হবে তাই।

 

আজ ‘প্রতিবন্ধী নারীর মাসিককালীন পরিচর্যা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য; ব্যবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক-এবং ফেনী – ১ আসন এর সংসদ সদস্য শিরীন আখতার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখাকালে এ কথাগুলো বলেন। এ বিষয়ে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে তিনি আরও বলেন প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে স্কুলগুলোতেও গুরত্বারোপ করতে হবে। জাসদের কর্ম এলাকায় প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি যুক্ত করা এবং ফেনী নিজ এলাকায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

 

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিএমপি এর সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিককালীন পরিচর্যা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এই বিষয়ের ওপর মত বিনিময় সভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজের অন্তর্দৃষ্টি খুললো কিছুটা। বিএমপি এর কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়ে আগে কাজ হলেও এখন থেকে তাদের মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

 

২৮ মে মাসিক পরিচর্যা দিবস উপলক্ষ্যে সমবায় অধিদফতর মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) উদ্যেগে এ সভার আয়োজন করা হয়েছিলো আজ। এছাড়াও সভার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে প্র্যাকটিকাল একশেন, কনসার্ন উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি),সাজিদা ফাউন্ডেশন, ওয়াটারএইড, এবং ওয়াশ এ্যালায়েন্স।

 

বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে সভাপতি সাবরিনা সুলতানা মূল প্রবন্ধ পাঠকালে অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের বিয়ে পরিবার প্রজনন স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়গুলো বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় থাকলেও তার বাস্তবায়ন একেবারেই নেই। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ তে প্রতিবন্ধী নারীদের একীভূত হবার বিষয়ে খানিকটা উল্লেখ থাকলেও, কোথাও নেই তাদের পরিবার গঠনের অধিকারের কথা। জাতীয় বাজেট তারা বঞ্চিত। এমনকি ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ের পরিচালিত হাইজিন বেজলাইন সার্ভেতেও প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তভুক্ত করা হয় নি।

 

প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক ও প্রজননস্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুধী সমাজের প্রতি নিম্নে উল্লেখিত কিছু প্রস্তাবনা তুলে মতবিনিময় সভায়ঃ

 

১. বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধী নারীদের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের মাসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে জরিপ পরিচালনাসহ গবেষণা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া

 

২. প্রতিবন্ধী নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য সেবা’র সংবেদনশীল বিষয়গুলো স্বাস্থ্য নীতি’র অন্তর্ভুক্তি ও তার বাস্তবায়ন সুনিশ্চিত করা; নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সেবার মান পর্যালোচনা করা

 

৩. জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী নারীর হাইজিন ও প্রজননস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা

 

৪. নারী উন্নয়ন নীতিমালার অধীনে তৈরি কর্ম পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করা

 

৫. অ-প্রতিবন্ধী নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রস্তাবিত প্রকল্প বা কর্মসূচী প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব করার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা

 

৬. অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী এবং মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ

 

৭. ভবঘুরে বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো মনো-সামাজিক প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য করণীয় নির্ধারণ

 

৮. উপজেলা, জেলাসদর, মাতৃসদন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ‘স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা’ বিভাগে প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরীদের জন্য প্রতিবন্ধী নারী সহায়ক কর্নার রাখা এবং প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া

 

৯. দেশের সকল স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী নারীর হাইজিন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অন্তত একজন করে কর্মী নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের কাজ সুষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা (এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডাক্তার বা নার্স নয় বরং সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বস্তরের কর্মচারীদের এমনকি হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচার বহনকারী, ল্যাব-টেকনিসিয়ান, ইত্যাদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে)

 

১০. ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধী নারীদের সেবা ও তাদের প্রতি হয়ে যাওয়া বৈষম্য রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ

 

১১. প্রজননস্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য, প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার কাজে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

একীভূত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারে বি-স্ক্যানের কনসার্ট

‘চলুন, একীভূত সমাজ গড়ি’ এই অঙ্গীকার নিয়ে ৮ জানুয়ারি, ২৯১৫  ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিতহলো ওপেন কনসার্ট। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন (ডিপিও) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) এর আয়োজনে বিভিন্ন ব্যান্ড দল এবং প্রতিবন্ধী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন এই কনসার্টে।  এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবরিনা সুলতানা ও তানভির আরাফাত ধ্রুব।

ব্যান্ডদলের মধ্যে জলের গান, নেফারিয়াস সেনটিনেল, আবর্তন ও শহরতলীর পরিবেশনা ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী শিল্পীদের মধ্যে আরও ছিলেন চাঁদের কনা, স্বপ্না চাঁদনী, নজরুল ইসলাম ও শাহাবুদ্দিন দোলন। তাদের সাথে একই কাতারে আবৃত্তিকার রূপা চক্রবর্তী অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে অ-প্রতিবন্ধী মানুষের সম অংশগ্রহণ ছিল প্রতিটি পর্যায়ে। পারফর্মার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও এই সমতা ছিল। বি-স্ক্যান প্রতিবন্ধী মানুষের সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের অধিকার অর্জনেএবং এই দেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে সচেতনতার উদ্দেশ্য কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিবন্ধী মানুষের কন্ঠস্বর হিসেবে ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে বি-স্ক্যান কর্তৃক প্রকাশিত হচ্ছে ত্রৈমাসিক পত্রিকা অপরাজেয়। প্রতিবন্ধী মানুষের সমন্বয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত এই পত্রিকাটির ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

সিম্ফোনি, ওয়াটারএইড, সাজিদা ফাউন্ডেশন, টিম এবং নিও জিপার কোম্পানী লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার ছিলো সময় নিউজ, এটিএন নিউজ,রেডিও টুডে, রেডিও এবিসি, দৈনিক সমকাল, বিডিনিউজটুয়েনটিফোর।

ডয়েচে ভেলে এর সেরা ব্লগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সাবরিনা দ্বিতীয়

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলের ‘সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতা’য় বাংলাদেশের সাবরিনা সুলতানা ‘বেস্ট ব্লগ’ ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছেন। তিনি বাংলা ভাষার পক্ষে এ বিভাগে লড়াই করেন। ১২ এপ্রিল, ২০১১ ডয়চে ভেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত সাবরিনা বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। প্রথম হতে পারিনি, তারপরও আমি খুশি। প্রতিবন্ধী মানুষও যে সক্ষম, এটা প্রমাণ করতে পেরে ভালো লাগছে। প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকারের বিষয়টি নিয়ে আমরা যে কাজ করছি, এ অর্জন তারও স্বীকৃতি।’ সাবরিনা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও বিচারকেরা সাবরিনাকে এ স্থানের জন্য বেছে নিয়েছেন। সাবরিনাকে পেছনে ফেলে ‘বেস্ট ব্লগ’ পুরস্কার জিতেছেন তিউনিসিয়ার মেয়ে লিনার ‘এ তিউনিসিয়ান গার্ল’। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার বিচারকেরা গত সোমবার জার্মানির বন শহরে বৈঠকে সাবরিনার ব্লগটি সম্পর্কে জানতে সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করেন। এ বিভাগে পরপর তিনবার বিচারকদের মধ্যে ভোটের আয়োজন করা হয়৷ চূড়ান্ত ভোটে সাবরিনার পক্ষে অবস্থান নেন পাঁচ ভাষার বিচারক। কিন্তু লিনার পক্ষে অবস্থান ছিল সাত বিচারকের। বিচারকদের দুই ভোটের জন্য সাবরিনার প্রথম স্থান হাত ছাড়া হয়।

চট্টগ্রামের মেয়ে সাবরিনা প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার অর্জন ও উন্নয়নে কাজ করা  বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। সাবরিনা জানালেন, এ প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশগ্রহণের কারণে অনেকেই তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরেছে।

ডয়চে ভেলের খবরে জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ভোট সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৮০৮। ছয়টি মিশ্র ভাষার ক্যাটাগরিতে ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হলেও বাংলা ভাষার কোনো ব্লগই ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনে সক্ষম হয়নি। এবারের ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ জয়ী অন্য ব্লগগুলো হচ্ছে, মানবাধিকার বিভাগে ইংরেজি ভাষার ব্লগ ‘মাইগ্রেন্ট-রাইটস ডট অর্গ’, বেস্ট ভিডিও চ্যানেল নির্বাচিত হয়েছে ফার্সি ভাষার ইউটিউব চ্যানেল ‘স্ট্যান্ডস উইথ ফিস্ট’,  টেকনোলজি ফর সোশ্যাল গুড বিভাগে রুশ ভাষার ‘রসপিল ডট ইনফো’, বেস্ট সোশ্যাল অ্যাক্টিভিজম ক্যাম্পেইন বিভাগে আরবি ভাষার ‘উই আর খালিদ সাইদ’ নামের ফেসবুক গ্রুপ এবং রিপোর্টার্স উইদআউট বডার্স বিভাগে জুডিথ টরিয়ার স্প্যানিশ ভাষার ব্লগটি।